এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমল: এইচএসসিতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ

0
120
AdvertisementADD
AdvertisementADD

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলে দেশের ৮টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাস করেছেন। ২০১৮ সালে মোট ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন পাস করেছেন। গত বছর ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন। গতবার এইচএসসিতে ও সমমানে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ বছর পাস করেছেন ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সে হিসেবে গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত সাত বছরের মধ্যে এবার উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পরীক্ষায় ফল খারাপ করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। এ বছর উচ্চমাধ্যমিকে সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ৮ হাজার ৭০৭টি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এরপর দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। দেখা গেছে, ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৮ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৮ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সে হিসেবে এ বছর পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। ৮টি সাধারণ বোর্ডে এ বছর ২৫ হাজার ৫৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ৭ হাজার ৬৮০টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমে এ বছর ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৬ হাজার ৯৩২ জন। পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত বছর ৯৬ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ৭৪ হাজার ৫৬১ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ২৪৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৮১৫ জন। এ বছর বোর্ডটিতে পরীক্ষার্থীর হার বাড়লেও ৫৭১টি জিপিএ-৫ কমে গেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০১৮ সালে ১ লাখ ১৮ হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮৯ হাজার ৮৯ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ৯৭ হাজার ১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাস করেছিলেন। সে হিসেবে কারিগরিতে পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ কমেছে ২১৩টি।

পাসের হারে এগিয়ে বরিশাল : ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। বোর্ডটির ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। আর পাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে দিনাজপুর বোর্ড। বোর্ডটির ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্য বোর্ডের মধ্যে ঢাকায় ৬৬ দশমিক ১৩, রাজশাহীতে ৬৬ দশমিক ৫১, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২, যশোরে ৬০ দশমিক ৪০, চট্টগ্রামে ৬২ দশমিক ৭৩ ও সিলেটে ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। গতকাল দুপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা নেচেগেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১ হাজার ৮৪৯ জন পাস করেছেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৯৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। নটর ডেম কলেজের ৩ হাজার ৯৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩ হাজার ৫৫ জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯ জন শিক্ষার্থী। মাইলস্টোন কলেজের ২ হাজার ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৯ দশমিক ০২ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ৯৯, মানবিকে ৯৮ দশমিক ৮৯ ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ পাস করেছেন। ডেমরার সামসুল হক খান কলেজ থেকে ৬৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৫৬ জন। বিজ্ঞান থেকে ২০৭, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৪০ ও মানবিক বিভাগ থেকে ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

শতভাগ পাস ৪০০টিতে, শতভাগ ফেল ৫৫টিতে : এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই পাস করেছেন। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩২টি কমেছে। এ ছাড়া এবার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেননি। গতবার ৭২টি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী শতভাগ ফেল করেছিলেন। সে হিসেবে গত বছরের চেয়ে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৭টি।

বিদেশে পাসের হার ৯২ শতাংশ : বিদেশের ৭টি কেন্দ্র থেকে ২৮৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৬৩ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ জন ছাত্রছাত্রী।

পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা : এ বছর এইচএসসি ও সমমানে ছাত্রীরা পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছাত্রী ও ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ছাত্র পাস করেছেন। অন্যদিকে জিপিএ-৫প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্ররা। এ বছর ১৫ হাজার ৫৮১ জন ছাত্র ও ১৩ হাজার ৬৮১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

ক্যাডেট কলেজে শতভাগ পাস : দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে ৬০৩ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬৯ জন।

ওয়েবসাইটে ফল : পাবলিক পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশের ওময়বসাইট (www.educationboardresults.gov.bd) থেকে ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার ফল জানা যাচ্ছে।

পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু আজ : আজ ২০ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে পারবেন আগ্রহীরা। এজন্য টেলিটক মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড দিয়ে ১৬২২২ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে আগ্রহীদের। পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা জমা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। গত ২ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়।

AdvertisementADD

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন