মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হার রোধে সরকারের অভাবনীয় সাফল্য

0
206

মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে দেশে মাতৃমৃত্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ এবং শিশুমৃত্যুর হার প্রায় অর্ধেক কমেছে। আর এজন্য মাতৃমৃত্যু রোধে সরকার ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারী সংস্থা নানা কর্মসূচী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্যের অন্যতম দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক। ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের অধীনে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তা বাস্তবায়ন করেনি। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল থেকে দেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে আওয়মী লীগ সরকার। সরকারী টার্গেট অনুযায়ী এ সংখ্যা ১৮ হাজারে উন্নীত করার কাজ চলমান। এর ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা নেয়ার হার ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সরকার মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ করতে নানা কর্মপরিকল্পনা পরিচালনা করছে। পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নারীর গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে। আবার গ্রাম পর্যায়ে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধে ২০১৮ সালের মধ্যে ৪২১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন সাব- সেন্টারে প্রায় তিন হাজার ধাত্রী নিয়োগ দেয়া হবে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামতের কাজও অব্যাহত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক (এমপি) বলেন, ‘আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে না পৌঁছাতে পারলেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে। শুধু সংখ্যাগত অর্জনের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে এখন গুণগত ও মানসম্মত সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।

মাতৃমৃত্যু হার কমাতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জরুরি প্রসূতিসেবা নিশ্চিত করায়। এ লক্ষ্যে ৫৯টি জেলা হাসপাতাল এবং ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতিসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।  এই ৫৯টি জেলা হাসপাতালে এরই মধ্যে ১৪টি জেলার ২০টি উপজেলায় ৩৪টি হাসপাতালকে নারীবান্ধব করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই প্রকল্পে সহায়তা করছে। এইসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হল- সন্তান প্রসবপূর্ব মায়ের যত্ন, দরিদ্র নারীর জন্য মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার প্রকল্প, কমিউনিটি ভিত্তিক স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্টস (এসবিএ) নিয়োগ ও মিডওয়াইফারি কর্মসূচি।

বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ জাতিসংঘ ঘোষিত মাতৃমৃত্যু হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

শেয়ার করুন:

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন