২ বন্ধুর পিয়ারা চাষে সফলতা

0
47

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাঁচবিবি : মারুফ ও জার্জিস ইসলাম যেন এক আত্বার ২ বন্ধু। শৈশব থেকে একই সাথে ২ বন্ধুর বেড়ে ওঠা পড়ালেখা খেলা-ধুলা। শহর থেকে পড়ালেখার পাঠ শেষে ২ বন্ধু ফিরে আসে নিজ এলাকা জয়পুরহাট সদরের পারুলিয়া গ্রামে। সরকারি একটা চাকরীর পিছে বহু ঘুড়েও যখন মিলনা সোনার হরিণের ন্যায় একটা চাকরী। ভেঙ্গে না পরে অবশেষে ২ বন্ধু সিন্ধান্ত নেয় চাকরীর বিকল্প কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই তাদের এক পরিচিত জনের থাই থ্রি পিয়ারার বাগান দেখে ২ বন্ধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন পিয়ারার বাগান করার।

বাগান করার কিছু প্রাথমিক পরামর্শ নিয়ে উপজেলার গদাইপুর এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলশীগঙ্গা নদীর পাদতলে পতিত ১৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ৩ হাজার থাই পিয়ারার চারা লাগায় তারা। বাগান করার ৬ মাস পর থেকেই পিয়ারা বিক্রয় শুরু করেন তারা। পিছনে আর তাকাতে হয়নি বন্ধুদ্বয়কে পেয়ে যান সাফল্যের দেখা। তাদের বাগানের সু-সাধু পিয়ারা এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় হচ্ছে। কর্মসংস্থানও হয়েছে এলাকার কয়জন বেকার যুবকের।

জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের বেড়াখাই ব্রিজের পশ্চিমে চোখ পরলেই দেখা যায় সবুজ পাতায় ভরপুর বিরাট পিয়ারা বাগান। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, বাগান পাহাড়াদার ছবিনাথ পাহান ও শ্রমিক মাহাবুব হোসেন দূর থেকে ড্রেনের মাধ্যমে গভীর নলকুপ চালিয়ে বাগানে পানি দিচ্ছে। অন্যেরা বাগানের সু-সাধু পিয়ারা তুলছে কেউ বা গাছে ধরা পিয়ারা গুলো পলিথিন দিয়ে মোড়াচ্ছে। এ বাগান থেকে সপ্তাহে দু’বারে ৩০-৪০ মণ পিয়ারা উঠানো হয় বলে জানায় মাহাবুব হোসেন।

বাগান মালিক মারুফ হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন সার, কিটনাশক, শ্রমিকসহ অন্যান্ন বছরে খরচ হয় প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। পক্ষান্তরে বছরে বাগান থেকে পিয়ারা বিক্রয় হয় প্রায় কোটি টাকা। মারুফের হিসাব মতে পিয়ারা বাগান থেকে খরচ বাদে বছরে আয় আসে ৭০ লক্ষ টাকা। সাফল্যের সিঁডি খূজে পাওয়া ২ বন্ধু এখন এলাকার বেকার যুবকদের মডেল হয়েছে। তাদের এ পিয়ারা বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন নানা বয়সের মানুষ। আর দিয়ে যাচ্ছে সবাইকে পরার্মশ, তাদের সাফ্যল দেখে ও পরার্মশ পেয়ে অনেক যুবক গড়ে তুলছে সারা বছর ফল দেওয়া এ থাইথ্রি পিয়ারা বাগান।

মারুফ বলেন, সরকারি ভাবে যদি আর্থিক ও কারিগরি প্রশিক্ষনের সহযোগিতা পেলে থাইথ্রি পিয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার ফল, ফুল চাষ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হত। এখন আলোকিত জীবন আমাদের ২ বন্ধুর।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন