ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

0
38

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার ও গণসংযোগ শেষ হওয়ার পর এখন ভোটের অপেক্ষা। আজ ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট গ্রহণ হবে ২৭ জানুয়ারি। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই অংশ নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে। কিন্তু সেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না; দল–মত, ধর্ম, জাতি ও নারী–পুরুষনির্বিশেষে সব ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেকোনো নির্বাচনের তিনটি পর্ব থাকে। প্রাক্‌–ভোট অর্থাৎ প্রচারণা পর্ব, ভোট গ্রহণ পর্ব ও ভোট গ্রহণ-পরবর্তী পর্ব। প্রচারণা পর্বের পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে হতাশাব্যঞ্জক রকমের ব্যর্থতা দেখিয়েছে। আগামীকাল ভোট গ্রহণ পর্বে তাদের জন্য আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। নির্বাচনী লড়াইয়ের এই চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা গতকাল শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভোটাররা অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।

বাংলাদেশে ভোট বরাবর উৎসবমুখর পরিবেশেই হয়ে থাকে। এখানকার ভোট প্রদানের হারও অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এবার শুরু থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ বিশৃঙ্খল, ক্ষেত্রবিশেষে ভীতিকর ও সহিংস। সিইসি যখন তাঁর কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তখনই বিরোধী দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে তাঁদের পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার-গায়েবি মামলা তো আছেই।

অতীতে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে (একতরফা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন ছাড়া)  প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা উৎসবের আমেজে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন; কিন্তু এবার বিরোধী দলের অধিকাংশ প্রার্থী প্রচারণার মাঠে ভালোভাবে থাকতে পারেননি। অনেক স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা ভয়ে প্রচারেই নামেননি। আবার অনেক স্থানে তাঁরা নামলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বহুবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হলেও তাঁরা প্রতিকার পেয়েছেন এ রকম উদাহরণ নেই বললেই চলে। ইসির পদাধিকারীরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে মুখস্থ কথা বলে গেছেন। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিন সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণা হয়েছে অনেকটাই একতরফা।

তারপরও আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আশা রাখতে চাই, প্রচারণা পর্বে যাই-ই হোক না কেন, ভোট গ্রহণ পর্বটি যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ভূমিকাও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরাই যাচাই করে থাকেন কেউ ভুয়া ভোট দিচ্ছেন কি না। অতএব, প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথে যাতে প্রতি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকতে পারেন, তা নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশজুড়ে স্বাভাবিক শান্তিশৃঙ্খলা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব। নির্বাচনের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই তা করতে হবে। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের ওপর পুলিশি হয়রানিও বন্ধ করা একান্ত জরুরি। কারণ, এসব অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন