এই মন্ত্রিত্ব বেশি দিন টিকবে না : ফখরুল

0
25

একাদশ জাতীয় সংসন নির্বাচনের পর গঠন হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভা বেশি দিন টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার রাতে ফেনী-৩ আসনের ‘আহত ও নির্যাতিত’ বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালের তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রশাসনের যারা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। তাড়াতাড়ি শপথ নিচ্ছেন, মন্ত্রী হচ্ছেন-এই মন্ত্রিত্ব বেশি দিন টিকবে না। ফেরাউন টেকেনি, নমরুদও টেকেনি। আপনারাও টিকবেন না।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মনোবল হারাবেন না। এই নির্বাচনে আমরা পরাজিত হয়নি। অন্যায়ের কাছে মাথানতো করা যাবে না।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সে ধর্ষিত হয়নি, দেশের নয় কোটি নারী ধর্ষিত হয়েছে। এখন সময় আছে নির্বাচন বাতিল করে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘প্রশ্ন এসেছে ভোট। ভোট তো হয় নাই। ভোটের তারিখ ছিল ৩০ তারিখ ডিসেম্বরে। ২৯ তারিখে ব্যালট শেষ। আমি ১৯৫৪ সালে ভোট দিতে গেছি, সেই থেকে এই পর্যন্ত সব ভোট দেখেছি, ভোটে অংশগ্রহণ করেছি। পৃধিবীর বিভিন্ন দেশের ভোটের ইতিহাস আমি পড়েছি এই ধরনের কলঙ্কিত উলঙ্গ ভোট ডাকাতি নয়, মহাডাকাতি। এরকম ভোট কোথাও হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। এটা ঘৃণা করার ভাষা নেই।’রব বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ সুবর্ণচর হয়ে যাবে। মা-বোন-মেয়ে নিয়ে মান ইজ্জতের সাথে বেঁচে থাকবেন কিভাবে? এদের খপ্পরে আক্রমনে সুবর্ণচরের এক মহিলার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে, তার শরীরে সিগেরেটের স্যাগা দিয়েছে। আমার সেই বোনকে আমরা দেখতে এসেছি। একাত্তরের যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, এই হায়নারের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে মান ইজ্জত নিয়ে কেউ বাঁচতে পারবে না। এই হায়নারদের রুখতে হবে, এই জালেমদের রুখতে হবে, এই জানোয়ারদের রুখতে হবে।’একাদশ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অবৈধ উল্লেখ করে রব বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়েছেন। আপনি তো ভোটে জিতেন নাই। আপনার শপথ নেওয়া বেআইনি। এই সংসদ (দশম) এর মেয়াদ আছে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেই সংসদ বাতিল করেছে এটা আমি কোনো পত্রিকায় দেখি নাই।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদ সদস্য হলো ৬০০। আপনি শপথ নিলেন কিভাবে। ওই সংসদ বাতিল না করে কীভাবে শপথ নিলেন আপনারা। এই শপথ বেআইনি ও অবৈধ। আপনি শপথ সংবিধান বিরোধী ও নীতি নৈতিকতা বিরোধী।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন করবে বলে জানান রব।কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়নি, প্রহসন হয়েছে। আজকে আইন নেই, বিচার নাই, প্রশাসন নেই, পুলিশ নাই। সব দলীয় হয়ে গেছে। এদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে হলে প্রথম নিজেকে তৈরি করতে হবে। সকলে শৃঙ্খলাবদ্ধ হোন।’শেখ হাসিনাকে জননেত্রী সম্বোধন করতেন উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনাকে সবসময় জননেত্রী বললাম। আপনাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার সামনেও আমি বলেছি। খালেদা জিয়া আমাকে বলেছেন, ভাই এরপরেও আপনি জননেত্রী বলেন। আমি বলেছিলাম, বলতে বলতে অভ্যাস হয়ে গেছে।’কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি বলি গত ২ জানুয়ারি আমি তাকে জননেত্রীর আসন থেকে আমার অন্তর থেকে আমি তাকে ত্যাগ করেছি। উনি (শেখ হাসিনা) যদি সারা পৃথিবীর বাদশাও হোন তাহলেও বঙ্গবন্ধুর একজন নগণ্য শীর্ষ হিসেবে আমি যে জননেত্রী বলতাম সেটা না বলার তার সবচাইতে বড় ক্ষতির হবে।’ এসময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার পরামর্শ দেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, শাহজাহান খান প্রমুখ।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন