১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। দেশের ৯০ ভাগ জনগণ ইসলাম ধর্মাবলম্বী বিধায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। এমন বৃহত্তম মুসলিম দেশের গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে দেশে ইসলামিক চেতনা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তায়। বিগত নয় বছরে ইসলামের উন্নয়ন কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে বলা যায় সে পথেই হাটছে তারা।

দেশকে ইসলামী মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজন ইসলাম শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসার। ইসলামি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষে প্রথমবারের মত দেশে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে গঠন করা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই সাথে মাদ্রাসাগুলোতে অনার্স কোর্স চালু করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাহেবরা সারাজীবন মসজিদে খেদমত করেন কিন্তু শেষ বয়সে এসে তারা কিছুই পেতেন না, তাদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ অর্থ বছর পর্যন্ত ৩০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে মঞ্জুর করে “ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট” গঠন করে দিয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি আলেম ওলামাদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ৬ষ্ঠ পর্যায় ১৫০০ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। যার ফলে ছিয়াত্তর হাজার আলেম এবং আটান্ন হাজার ওলামাদের কর্মসংস্থানের সৃস্টি হয়েছে। যেটি পৃথিবীর ইতিহাসে নজির স্বরূপ।

আল-কুরআন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ, পঠন ও অনুশীলনের জন্য ৭৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আল-কুরআন ডিজিটালাইজেশন করা হয় বিগত বছরগুলোতে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় ২০১০ সালে পাঁচ বছর মেয়াদী হজ্ব নীতি প্রণয়ন করা হয়। সেই সাথে হজ্ব যাত্রিদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০১১ সালে জেদ্দা হজ্ব টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া নেওয়া হয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। যার জন্য ২০১০ থেকে ২০১১ সালে বাংলাদেশ হজ্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হবার গৌরব অর্জন করে।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ধর্ম-কর্ম পালনের পাশাপাশি ইসলাম নিয়ে রিসার্চ করার সুবিধা প্রদান করতে, প্রত্যেক জেলা উপজেলায় মোট ৫৬০ টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন