গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়াতে খুলনা নির্বাচনের দিকে মনোযোগ ছিল সমগ্র দেশবাসীর। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সামনে এক ধরণের চ্যালেঞ্জ ছিল খুলনা সিটি নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা এবং সক্ষমতা প্রমাণের নির্বাচন ছিল এই খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

খুলনা সিটি নির্বাচনে ইসির সক্ষমতা সহ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল দেশি বিদেশী অসংখ্য পর্যবেক্ষক দল। পর্যবেক্ষক দল ছাড়াও দেশি বিদেশী অনেক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও খুলনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হয়। ২৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে। বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পর্যালোচনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শেষে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে ভোট কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগ এনে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলে-পেলে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এই রকম কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টিরও বেশি হবে।’

এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকেও খুলনা নির্বাচনে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া ইত্যাদি অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনকে অক্ষম আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্ঘটনের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষকরা এবং বিভিন্ন সাংবাদিকরা এই নির্বাচনকে মোটামুটি সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলে মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হওয়াতে তারা নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ক্ষমতা প্রয়োগ ও সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখাতে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, ‘খুলনা সিটি নির্বাচনে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু ফল পাল্টে দেওয়ার মত কোনো অনিয়ম দেখিনি।’

পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, ‘খুলনার ভোটে অনিয়মে মাত্র তিনটি কেন্দ্র স্থগিত হয়েছে। সার্বিক বিচারে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে।’

তিনি আরো জানান তাদের পর্যবেক্ষকরা প্রায় সবগুলো কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেখানে মাত্র ৩-৪টি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট পাননি তারা। দুই-এক জায়গায় কিছুটা অনিয়ম হয়েছে, ভোট স্থগিতও হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ২৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। সে হিসাবে শেষ পর্যন্ত ‘বড় ধরনের’ ঘটনা ঘটেনি বলেই মনে করছেন ফেমার প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে বিভিন্ন সাংবাদিক এবং নির্বাচনী বিশ্লেষকরা খুলনা নির্বাচনে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে পরিস্থতি বিবেচনায় স্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে মোটামুটি সফল বলে মত দিয়েছেন।

নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকের মতামত জানতে চাইলে তারা জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে তারা বিএনপির বেশিরভাগ অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি খুঁজে পাননি।

এদিকে খুলনায় তিনটি কেন্দ্র স্থগিত হলেও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন