কবে বিসিএসের সার্কুলার?

0
307
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সাধারণত জুনের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার দিয়ে থাকে। চলতি বছরের জুন মাস শেষ হতে চলেছে; কিন্তু এবার বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় দেড় মাস আগে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ার কারণে পিএসসি সার্কুলার দিতে পারছে না।

প্রতিবেদনে পিএসসির শীর্ষপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি ছাড়া নতুন সার্কুলার দিলে দু’ধরনের সমস্যা হতে পারে- ১. সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আবার আন্দোলনে নামতে পারে। ২. কোন্ নীতির আলোকে প্রার্থী সুপারিশ করা হবে, সেটা সার্কুলার জারির সময়ই নির্ধারণ করতে হয়।

বর্তমানে যে চারটি বিসিএসের কাজ চলছে, সেগুলোর ব্যাপারে কোটা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতি।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী; যদিও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে, বাতিলের দাবিতে নয়।সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা যে বৈষম্যমূলক এবং এতে যোগ্যদের পিছিয়ে পড়তে হয় প্রতিযোগিতায়, এ বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে দেশে বেকারত্বের পরিমাণ উদ্বেগজনক।

উপরন্তু কোটা পদ্ধতির কারণে বিপুলাকার বেকার শ্রেণীর মধ্যে যারা সত্যি সত্যি মেধাবী ও চাকরি পাওয়ার যোগ্য, তারা যদি কোটার শিকার হয়ে চাকরিবঞ্চিত থাকে, তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকরও বটে। তাই শিক্ষার্থীরা এ ব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে গিয়ে বিসিএস পরীক্ষা যদি পিছিয়ে যায়, তাহলে তাও অনেকের ক্ষতির কারণ হবে। অনেক প্রার্থীর বিসিএসে আবেদনের বয়স পেরিয়ে যাবে, তারা বঞ্চিত হবেন ক্যাডারভুক্ত সরকারি চাকরিপ্রাপ্তি থেকে। এতে হতাশা বাড়বে চাকরিপ্রার্থীদের। তাই সময়মতো বিসিএসের সার্কুলার জারি করাই কাম্য। এক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা হলে তা উদ্বেগের কারণ হবে।বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের চাকরি দেশের অন্যতম সম্মানজনক ও কাক্সিক্ষত পেশা। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি এসব সার্ভিসে নিয়োগ পান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্রে দুই হাজারের বেশি পদে নিয়োগের কথা রয়েছে। সন্দেহ নেই, বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা অপেক্ষা করছেন সার্কুলারের। কাজেই ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার পিছিয়ে দেয়া সমীচীন হবে না। উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়ার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই ৪০তম বিসিএসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকলেও তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ নিয়ে অতি দ্রুত

সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সার্কুলারও জারি করতে হবে দ্রুত। নয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেশনজটের মতো বিসিএস জট লেগে যেতে পারে, যা কারও জন্যই সুখকর হবে না।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন